জাপান–বাংলাদেশ EPA চুক্তি: ২০২৭ সালে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কী সুযোগ?
প্রকাশের তারিখ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬
জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (EPA) নিয়ে আলোচনা দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। জাপানে কাজ করতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জানা প্রয়োজন, এই চুক্তির সঙ্গে কর্মী নিয়োগ ও ভিসার সম্পর্ক কী।
১. EPA চুক্তি কী?
EPA-এর পূর্ণরূপ Economic Partnership Agreement। এটি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, শুল্ক, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর একটি চুক্তি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট পণ্যের আমদানি-রপ্তানিতে শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
২. জাপানের সংবাদপত্রে কী বলা হয়েছে?
১৮ অক্টোবর ২০২৬ সালের জাপানি সংবাদপত্রের ছবিতে বাংলাদেশ ও জাপানের EPA চুক্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- জাপান থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি করা পণ্যের শুল্ক।
- বাংলাদেশ থেকে জাপানে আমদানি করা পণ্যের শুল্ক।
- পোশাক, গাড়ির ইঞ্জিন ও অন্যান্য পণ্যের শুল্ক প্রত্যাহারের সময়সীমা।
- দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা।
তবে সংবাদপত্রের এই ছবি একা বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ১০ বছর মেয়াদি চুক্তি নিশ্চিত করে না।
৩. ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে কি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ শুরু হবে?
“১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নেবে জাপান, ১০ বছর মেয়াদি চুক্তি সই”—এই দাবির সঠিক অর্থ বুঝতে চুক্তির পূর্ণ নথি ও সরকারি ঘোষণা যাচাই করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে জানতে হবে:
- ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে কোন কর্মসূচি কার্যকর হবে?
- ১০ বছর মেয়াদি চুক্তিটি EPA, নাকি কর্মী নিয়োগ-সংক্রান্ত আলাদা চুক্তি?
- কোন ভিসা, কর্মক্ষেত্র ও নিয়োগপ্রক্রিয়া এর আওতায় পড়বে?
গুরুত্বপূর্ণ: এই নির্দিষ্ট দাবিগুলো পূর্ণ সরকারি নথি দিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এগুলোকে নিশ্চিত সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।
৪. জাপানে বাংলাদেশিদের কাজের সুযোগ
特定技能 (Specified Skilled Worker বা SSW)
নির্ধারিত শিল্পক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, ভাষার যোগ্যতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করে এই ব্যবস্থায় কাজ করা যায়। শর্ত ক্ষেত্রভেদে আলাদা হতে পারে।
育成就労 (Ikusei Shuro)
জাপানের নতুন দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে চালুর জন্য নির্ধারিত। এটি পুরোনো 技能実習 (Technical Intern Training) ব্যবস্থার পরিবর্তে আসবে। এর লক্ষ্য দক্ষতা উন্নয়ন এবং নির্দিষ্ট শর্তে 特定技能১号-এ যাওয়ার পথ তৈরি করা।
介護 (Kaigo বা কেয়ারগিভিং)
জাপানে বয়স্ক ও সহায়তাপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের সেবা দেওয়ার কাজে সুযোগ রয়েছে। তবে কাজের ধরন, যোগ্যতা এবং ভিসার শর্ত যাচাই করা জরুরি।
উপরের কর্মসংস্থান ব্যবস্থাগুলো সম্পর্কে তথ্য থাকা মানেই EPA চুক্তির অধীনে নতুন নিয়োগ কর্মসূচি চালু হয়ে গেছে—এমন নয়।
৫. বাংলাদেশ থেকে জাপানে কর্মী পাঠাতে কী প্রয়োজন?
- বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় রিক্রুটিং লাইসেন্স ও অনুমোদন।
- প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনুমোদিত Sending Organization-এর সঙ্গে বৈধ চুক্তি।
- জাপানের নিয়োগকর্তা বা গ্রহণকারী সংস্থার সঙ্গে নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তি।
- বেতন, কর্মঘণ্টা, ছুটি ও অন্যান্য কর্মশর্তের স্বচ্ছ বিবরণ।
- প্রয়োজনীয় দক্ষতা, ভাষা ও পরীক্ষার যোগ্যতা।
- ভিসা ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত সঠিক নথি।
- কর্মীর অধিকার, ফি এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির নিয়ম মেনে চলা।
শুধু EPA চুক্তির খবরের ভিত্তিতে কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মী পাঠানোর অনুমতি পেয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
৬. জাপানে কাজ করতে ইচ্ছুকদের এখন কী করা উচিত?
- জাপানি ভাষা শেখা শুরু করুন এবং JLPT বা প্রাসঙ্গিক ভাষা পরীক্ষার প্রস্তুতি নিন।
- নিজের পছন্দের কর্মক্ষেত্রের দক্ষতা ও পরীক্ষার শর্ত জানুন।
- নিয়োগকর্তা, চাকরির চুক্তি ও ভিসার ধরন যাচাই করুন।
- চাকরির নিশ্চয়তার নামে প্রতারণামূলক অর্থ দাবি থেকে সতর্ক থাকুন।
- সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ ঘোষণা অনুসরণ করুন।
৭. সরকারি তথ্য যাচাই করার ওয়েবসাইট
উপসংহার
জাপান ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন ভবিষ্যতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন নিয়োগ কর্মসূচি, ভিসা বা ১০ বছর মেয়াদি চুক্তির প্রকৃত প্রভাব জানতে সরকারি ঘোষণা ও চুক্তির পূর্ণ শর্ত যাচাই করা জরুরি।
জাপানে কাজ করতে চাইলে এখন থেকেই ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়নে মনোযোগ দিন এবং বৈধ নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করুন।